কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ০৪:১৯ PM
কন্টেন্ট: প্রেস রিলিজ প্রকাশের তারিখ: ২৫-০১-২০২৬
মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি- শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার
প্রেস রিলিজ
ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬: আজ টাঙ্গাইলের নাগবাড়ী হাসিনা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই বরেণ্য গুণীজন-বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি বুলবুল খান মাহবুব এবং এই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো: আফরোজ হোসেন সিদ্দিকী-কে আজীবন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।
এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী ও স্থানীয় বিশিষ্টজন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক অনুপ্রেরণাদায়ী পরিবেশে পরিনত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ড. আশরাফ সিদ্দিকী স্মৃতিচারণ করে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেন, “তিনি শুধু একজন কবি বা সাহিত্যিক নন, তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক এক মানবিক ব্যক্তিত্ব। সাহিত্যকে তিনি ঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে সাধারণ মানুষের জীবন, চিন্তা-ভাবনা ও সংস্কৃতিকে জানার মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক গবেষণাভিত্তিক সাহিত্যচর্চা। সাইকেল ও টেপ রেকর্ডার হাতে লোকসাহিত্য সংগ্রহে তার নিরলস শ্রম আজও আমাদের জন্য বিরল দৃষ্টান্ত।”
শিক্ষা উপদেষ্টা আরো বলেন, “বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেও তিনি দেশের মাটিতে ফিরে এসে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষাবিকাশে নিজেকে নিবেদিত করেন। পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি জ্ঞানসাধনাকেই তিনি জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর চাহিদা ছিল সামান্য, কিন্তু অবদান ছিল বিপুল-দেশব্যাপী সাহিত্য সংগঠন, নাট্যসংস্থা, পাঠাগার আন্দোলন এবং শিক্ষা সংস্কারে তাঁর ভূমিকা আজ ইতিহাসের অংশ।”
বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেশপ্রেমের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষা উপদেষ্টা আবরার বলেন, “দেশপ্রেম শুধু ইতিহাসের গৌরবগাথা স্মরণ নয়, বরং সততা, দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সহানুভূতি ও ন্যায়বোধের চর্চাই প্রকৃত দেশপ্রেম। মন দিয়ে পড়াশোনা করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করাকেই দেশপ্রেমের জীবন্ত প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।”
মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। নম্বর বাণিজ্য ও কৃত্রিম ফলাফলের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়াসকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন শিক্ষা উপদেষ্টা।
এছাড়াও শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তকের মানোন্নয়ন, শতভাগ বই বিতরণ, সহশিক্ষা কার্যক্রম, সংস্কৃতি চর্চা, বহুত্ববাদ ও বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সি আর আবরার বলেন, বাংলাদেশ বহুমাত্রিক পরিচয়ের দেশ-ভাষা, সংস্কৃতি, জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি, দুর্বলতা নয়। এই বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক আবুল কাশেম চৌধুরী।
স্বাক্ষরিত
খালিদ মাহমুদ
জনসংযোগ কর্মকর্তা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়।